STV NEWS জলঢাকায় শিশুর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ‘পানিতে পড়ে মৃত্যু নয়, হত্যার সন্দেহ’—সুষ্ঠু তদন্তের দাবি - STV NEWS

জলঢাকায় শিশুর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ‘পানিতে পড়ে মৃত্যু নয়, হত্যার সন্দেহ’—সুষ্ঠু তদন্তের দাবি


ডেস্ক রিপোর্ট অক্টোবর ৪, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ন
জলঢাকায় শিশুর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন  ‘পানিতে পড়ে মৃত্যু নয়, হত্যার সন্দেহ’—সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

মো. রাজু মিয়া সোহাগ, ডেক্স রিপোর্টারঃ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ বছরের শিশু খাদিজা আক্তারের মৃত্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। শিশুটির মৃত্যু পানিতে ডুবে হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে জলঢাকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১,নং ওয়ার্ডের নালারপাড় এলাকার বাসিন্দা আজহারুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে উল্লেখ করে তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আজহারুল ইসলামের সঙ্গে এনামুল হকের মেয়ে রেজিনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা বিরোধ চলে আসছিল বলে দাবি পরিবারের। শিশুটির মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে রেজিনা বেগম বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং আজহারুল ইসলামের পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজহারুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।পরিবারের দাবি, ওই বিরোধের জেরে তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে ঘটনাটি পানিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হিসেবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ ইসলাম অপমৃত্যু-সংক্রান্ত একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে তারা দেখতে পান, ওই কাগজে শিশুটি সাঁতার না জানায় খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো সন্দেহ বা অভিযোগ নেই—এমন বক্তব্য লেখা রয়েছে।পরিবারের সদস্যদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্যে তারা স্বাক্ষর করার সময় বিষয়টি পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। পুলিশের ওই কার্যক্রম নিয়েও তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তাদের প্রশ্ন, কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার এবং সুরতহালের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন হলো কেন।এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে দিয়ে হওয়ায় তারা হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর ‘আল-আমিন’ নামে এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো পক্ষের প্রভাব ছাড়াই ঘটনার তদন্ত চান। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়া, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।