STV NEWS গোলনা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় রেজুলেশন ছাড়াই মাদ্রাসার ১০টি গাছ বিক্রির অ/ভি/যো/গ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বি'রু'দ্ধে - STV NEWS

গোলনা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় রেজুলেশন ছাড়াই মাদ্রাসার ১০টি গাছ বিক্রির অ/ভি/যো/গ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বি’রু’দ্ধে


ডেস্ক রিপোর্ট অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ন
গোলনা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় রেজুলেশন ছাড়াই মাদ্রাসার ১০টি গাছ বিক্রির অ/ভি/যো/গ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বি’রু’দ্ধে

এস টিভি নিউজ এক্সপ্রেস,ডেক্স রিপোর্টঃ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহাবুবার রহমানের বিরুদ্ধে পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন ও কোনো রেজুলেশন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০টি মূল্যবান গাছ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিক্রি করা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। এ অর্থ মাদ্রাসার তহবিলে জমা না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ছুটি মঞ্জুর না করিয়েই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সীমানা ও আঙিনায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০টি বড় গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি কিংবা রেজুলেশন ছাড়াই এসব গাছ এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। বিক্রির পর দ্রুত গাছগুলো কেটে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না দিয়ে অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব ও গাছ বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহাবুবার রহমান বলেন, “মাদ্রাসার গাছ কেটেছি, তাতে আপনার সমস্যা কোথায়?”
এদিকে, তাঁর কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ছুটির আবেদন বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাঁদের অবহিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও গাছ বিক্রির বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহাবুবার রহমানের প্রভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানে একের পর এক অনিয়ম ঘটছে। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার পাশাপাশি ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ট্যাংকি ও মোটরসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহারে অনিয়মসহ আরও কিছু বিষয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্যের বাইরে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি, অর্থের হিসাব, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং অন্যান্য অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।