STV NEWS জলঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন: “স্পিড ব্রেকার দিন, কোমলমতি শিশুদের জীবন বাঁচান” - STV NEWS

জলঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন: “স্পিড ব্রেকার দিন, কোমলমতি শিশুদের জীবন বাঁচান”


ডেস্ক রিপোর্ট জুন ১৫, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ন
জলঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন: “স্পিড ব্রেকার দিন, কোমলমতি শিশুদের জীবন বাঁচান”

মোঃ জামিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম গোলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক কোমলমতি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শনিবার (১৪ জুন) বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেন।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি যানবাহনের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে নীলফামারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থীর বাবা সুজন ইসলাম (সুজন মিয়া) আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ছেলে এখনও বেঁচে আছে। আমি চাই না ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মাকে এমন কষ্ট সহ্য করতে হোক। তাই প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের সামনের ব্যস্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. বিদ্যালয়ের সামনে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণ।
২. শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং স্থাপন।
৩. “সামনে বিদ্যালয়, গতি কমান” সম্বলিত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন।
৪. বিদ্যালয় শুরু ও ছুটির সময়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবল বা শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন।
ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
কর্মসূচির একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়ককে দুর্ঘটনামুক্ত ও নিরাপদ করে তুলবে।