

সাহেব আলী, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ী এলাকার দীর্ঘদিনের মৃতপ্রায় খাল খননের মাধ্যমে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বহু বছর পর খালটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ দেখে আনন্দিত স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। খালটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তারা।
শুক্রবার দুপুরে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম ভেড়ভেড়ী গ্রামে চলমান খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খালের পানিপ্রবাহ ও খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে এমপি আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “এই খাল কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য খাল খনন অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।”
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান, কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান, পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শিব্বির আহমেদ, পুটিমারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আফজালুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় মৃত অবস্থায় ছিল। খনন কাজ শুরু হওয়ার পর আবারও পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। পুরো কাজ সম্পন্ন হলে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। এতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ী মৌজার আরএস ৬৯, ১৫৭ ও ৪৩৬ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খনন কাজ সম্পন্ন হলে খালটি এলাকার কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :