

ঢাকা প্রতিনিধি: মোঃ আনোয়ার হোসেন
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, যানজট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে সাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে রাজধানীতে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস-২০২৬ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য বাইসাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৭টায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ এবং Work for a Better Bangladesh Trust (ডাব্লিউবিবি) যৌথভাবে এ র্যালির আয়োজন করে। র্যালিটি রাজধানীর আবাহনী খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আবাহনী মাঠে এসে শেষ হয়।এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল সাইকেল বান্ধব নগরী, জলবায়ু সহিষ্ণু ভবিষ্যৎ”।র্যালির পাশাপাশি আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা নিরাপদ সাইকেল লেন, সমন্বিত সাইকেল নেটওয়ার্ক এবং সাইকেলের যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সাইকেল পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডাব্লিউবিবি’র পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বায়ুদূষণ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাইকেল একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান। তিনি নগর পরিকল্পনায় সাইকেলবান্ধব অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় প্রায় ৮ থেকে ১০টি সাইকেল রাখা সম্ভব। সাইকেলের ব্যবহার বাড়লে নগরের যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং স্বাস্থ্যকর নগর জীবন নিশ্চিত হবে।রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাহাজ্জাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট সাইকেল চালানো মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি বায়ুদূষণ হ্রাসেও সহায়ক।ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ মান্নান মনির বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং সাইকেলের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া জরুরি।বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস বলেন, সরকার নিরাপদ সাইকেল লেন, পার্কিং সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করলে সাইকেল ব্যবহারকারীরা কর প্রদান করতেও প্রস্তুত। এজন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।র্যালিতে বিভিন্ন সাইকেল ক্লাবের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকসহ প্রায় ১২০ জন সাইক্লিস্ট অংশগ্রহণ করেন।অবস্থান কর্মসূচি থেকে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রধান সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাকে সংযুক্ত করে নিরাপদ সাইকেল লেন নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাইকেল পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা, এলাকাভিত্তিক সাইকেল শেয়ারিং ব্যবস্থা চালু করা, সাইকেলের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট হ্রাস এবং দেশীয় সাইকেল উৎপাদন শিল্পকে কর-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান।অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল এনভাইরনমেন্ট ক্লাব-ডিএসসিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল, লোটাস ন্যাশনাল স্কুল, শেরে বাংলা আইডিয়াল স্কুল, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ, উত্তরা সাইকেল কমিউনিটি, সূর্য শিশির রানার্স, ইকো বাংলা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ধানমন্ডি টুরিস্ট সাইক্লিস্ট এবং কারফ্রি সিটিস অ্যালায়েন্স।
আপনার মতামত লিখুন :