

জেলা প্রতিনিধি নীলফামারীঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাহেব আলী নামে এক সাংবাদিককে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ পত্রিকার সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) গত ৮ জুন “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পরদিন মঙ্গলবার তিনি ডিআরবি’র সাংবাদিক লিওন (২৬)-কে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে চেপে ধরলে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক লিওনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তা ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকে রেখে পুনরায় মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিক সাহেব আলীকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত সাংবাদিক সাহেব আলী অভিযোগ করে বলেন, “প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত দেরিতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, “প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :