STV NEWS জলঢাকায় ২ বছরে ৩ বার তিনটি মুসলিম পরিবারের নারীদের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ। পূর্বে হয়েছিল গ্রাম্য সালিস।এবার এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় সোপর্দ করেন - STV NEWS

জলঢাকায় ২ বছরে ৩ বার তিনটি মুসলিম পরিবারের নারীদের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ। পূর্বে হয়েছিল গ্রাম্য সালিস।এবার এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় সোপর্দ করেন


ডেস্ক রিপোর্ট জুন ৭, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ন
জলঢাকায় ২ বছরে ৩ বার তিনটি মুসলিম পরিবারের নারীদের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ। পূর্বে হয়েছিল  গ্রাম্য সালিস।এবার এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় সোপর্দ করেন

মোঃরাজু মিয়া সোহাগ, নীলফামারীঃ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে সুজন চন্দ্র নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, গত দুই বছরের মধ্যে উক্ত যুবকের বিরুদ্ধে একই ধরনের তিনটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আগের দুটি ঘটনায় স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি রফাদফা করা হলেও এবার ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় এবং সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শৌলমারী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ঝড়িয়া চন্দ্রের ছেলে সুজন চন্দ্র পাশের পাড়ার এক গৃহবধূর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি ওই গৃহবধূর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আশঙ্কাজনক এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নারীর প্রাণপণ চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং অভিযুক্ত সুজন চন্দ্রকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন।

নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী মনি বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী একজন সাধারণ দিনমজুর হওয়ায় জীবিকার তাগিদে প্রায়ই বাড়ির বাইরে অবস্থান করেন। বাড়ি জনশূন্য থাকার এই সুযোগটি নিয়ে সুজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত যুবক প্রায়ই গভীর রাতে তার ঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতো, কুপ্রস্তাব দিতো এবং রাজি না হলে নানামুখী ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো। ঘটনার দিন সুজন চন্দ্র লোকচক্ষুর আড়ালে ঘরে ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরলে তিনি চিৎকার করেন, যা শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটকে রাখে। পরবর্তীতে মনি বেগম নিজে বাদী হয়ে জলঢাকা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, সুজন চন্দ্রের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অপরাধের ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি একই এলাকার অন্য এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাকে স্থানীয়রা আটক করেছিল। সে সময় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর ৯ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে অভিযুক্তের পরিবার লিখিত মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এর পরবর্তীতে আরেকটি ঘটনায় এক নারীর প্রতি চরম অশোভন আচরণ ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হয়েছিল সুজন চন্দ্র।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটায় পুরো শৌলমারী ইউনিয়ন জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করেন, আগের ঘটনাগুলোর সময় যথাযথ আইনগত পরিণতি বা কঠোর শাস্তি না হওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুজন চন্দ্রকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরবর্তীতে আর কেউ এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় চলমান রয়েছে এবং আদালতের আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

জলঢাকার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রাম্য সালিশ কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না, বরং অপরাধীকে আরও বেপরোয়া করে তোলে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুজন চন্দ্রের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হলে তা গ্রামীণ নারীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক অপরাধ দমনে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।