STV NEWS বাচ্চাদের খেলনার শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে জলঢাকায় নিহত ১, আহত ২৫।আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে লাশের গাড়ি আটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ - STV NEWS

বাচ্চাদের খেলনার শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে জলঢাকায় নিহত ১, আহত ২৫।আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে লাশের গাড়ি আটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ


ডেস্ক রিপোর্ট সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ন
বাচ্চাদের খেলনার শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষে জলঢাকায় নিহত ১, আহত ২৫।আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে লাশের গাড়ি আটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মোঃরাজু মিয়া সোহাগ,ডেক্স রিপোর্টারঃ

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় শিশুদের শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেন নামের এক মুরগি ব্যবসায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন।
এদিকে মকবুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁর মরদেহ বহনকারী গাড়ি আটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। একই ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের করা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর বালাগ্রাম ইউনিয়নের ৯,নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়ায় শিশুদের খেলনার শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হন। পরে আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
মকবুল হোসেনের মরদেহ দুপুরে নিজ বাড়ি বালাগ্রামের দিকে নেওয়ার সময় জলঢাকা বাজারে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী মরদেহ বহনকারী গাড়িটি আটকে দেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেটি বিক্ষোভে রূপ নেয়।এ সময় বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁরা অভিযোগ করেন, মকবুল হোসেনসহ আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মকবুল হোসেন আইসিইউতে ভর্তি ও উভয় পক্ষের লোক চিকিৎসাধীন থাকার পরও একই ঘটনায় পৃথকভাবে মামলা রেকর্ড করা হলো,এ বিষয়ে তারা তদন্ত দাবি করেন ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৭ই সেপ্টেম্বর একটি মামলা করা হয়। মামলাটি ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও মামলা করা হলে সেটি ১৯ই সেপ্টেম্বর ২৩ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়। অর্থাৎ একই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই পৃথক মামলা রয়েছে।নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী, মকবুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তাঁরা।