

মোঃ মিনারুল ইসলাম,চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে।গতকাল রবিবার (৩১ মে, ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে জীবননগর পৌর এলাকার পৃথক পৃথক স্থানে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই আসামিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল এবং এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:ফিরোজ হোসেন (২৯): জীবননগর পৌরসভার গোপালনগর গ্রামের তাহাজ্জের হোসেনের ছেলে।সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৬): একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।মশিয়ার রহমান (৪৫): গোপালনগর গ্রামের মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে।মিন্টু (৪২): ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার কাশিপুর গ্রামের মোজেয়ার চৌধুরীর ছেলে। তাকে জীবননগর হাসপাতাল পাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।জীবননগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক মামলাগুলোতে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একাধিক টিম রবিবার রাতে মাঠে নামে।পৌরসভার গোপালনগর গ্রামে প্রথম দফায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ফিরোজ, সাজ্জাদুল ও মশিয়ারকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে গভীর রাতে হাসপাতাল পাড়া এলাকায় অপর একটি টিম অভিযান চালিয়ে কালীগঞ্জ থানার কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মিন্টুকে গ্রেফতার করে।পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলেও চৌকস পুলিশ সদস্যরা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন।এই সফল অভিযানের বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ গণমাধ্যমকে জানান:”জীবননগর উপজেলাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে আমাদের নিয়মিত এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১ জুন) সকালে সকােল আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”ওসি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদকের সাথে জড়িত ক্ষুদ্র বিক্রেতা থেকে শুরু করে গডফাদার—কারও সাথেই কোনো আপস করা হবে না। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এই মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি ও সাঁড়াশি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।এলাকাবাসী পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং জীবননগর থেকে মাদকের অভিশাপ চিরতরে দূর করতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :