

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাজেডুমুড়িয়া ইউনিয়নের ১,নং ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় বসতবাড়ির গেটের সামনে বড় গর্ত করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অসহায় পরিবারের স্বজনদের বিরুদ্ধে। এতে গত দুই দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না অটোচালক মোতালেব হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।ভুক্তভোগী মোতালেব হোসেনের অভিযোগ, তাঁর মামা মাহাতাব উদ্দিন এবং মামাতো ভাই আফিজার ও লাল মিয়া তাঁর বাড়ির গেটের সামনে বড় গর্ত করেছেন। এতে বাড়ি থেকে অটোভ্যান বের করার কোনো সুযোগ নেই। অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মোতালেব বলেন, দুই দিন ধরে অটোটি বাড়িতে পড়ে থাকায় তাঁর আয় বন্ধ রয়েছে। এতে সংসারে খাবারের সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।মোতালেব হোসেনের দাবি, এ ঘটনার জেরে তাঁর স্ত্রী আনজুয়ারা বেগমকেও ছয়ফাল ও তাঁর ছেলে নাজিমুল ও নাছিম বেধরক মারধর করেছেন। পাশাপাশি তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৪৫-৫০ বছর ধরে মোতালেবের পরিবার ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। তাঁর বাবা-মা মোজাম্মেল হক ও তরিফোননেছার মৃত্যুর পর থেকেই মোতালেব সেখানে বসবাস করছেন। তিনি অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাড়ির প্রবেশপথের সামনে গর্ত করায় মোতালেব ও তাঁর পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে তিনি অনেকটা গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহাতাব উদ্দিন, আফিজার ও লাল মিয়া বলেন, ‘ওই জমি আমাদের। আমরা আমাদের জমিতেই গর্ত করেছি। তাদের রাস্তার প্রয়োজন হলে বাড়ি ভেঙে রাস্তা তৈরি করুক।’এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, যে জায়গাটি দিয়ে মোতালেবের পরিবার চলাচল করে, সেই জায়গা মোতালেব তাঁদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি লিখে দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা লিখে দেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, ওই জায়গার জন্য দুই-তিন দফায় টাকা নেওয়া হলেও জমি লিখে দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে আবারও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিরোধের জেরেই মোতালেবের বাড়ির সামনে পুনরায় বড় গর্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মানুষের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি জটিল করা কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক নয়। তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :