

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার,স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত মাহমুদ ডেনিমস্ লিমিটেডের ১২০০ শ্রমিক কর্মচারীর দীর্ঘ চলতি চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তরা হেড অফিসে শ্রমিক কর্মচারীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ।
গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত তাদের কোন বেতন দেওয়া হচ্ছে না তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে লসের অভিযোগ এনে বন্ধ রাখা হয়েছে কারখানা। এভাবে অনেক বারই ফ্যাক্টরী বন্ধ রাখেন।
এদিকে বকেয়া বেতন না দেওয়ায় শ্রমিক কর্মচারীদের জীবন আজ বিপন্নের দার পথে। পরিবার পরিজন নিয়ে এক করুন ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। বেকারত্বের ঘানি মাথায় নিয়ে ঘুরছেন তারা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ মাহমুদ ডেনিমস্ লিমিটেডে কাজ করে আসছে কিন্তু হঠাৎ করেই লসের অভিযোগ এনে মালিক পক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ১২০০ শ্রমিক কর্মচারী বেকারত্বে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে অসহায় হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ রিক্সা, অটো চালাচ্ছেন কেউ কেউ দিনমজুরের কাজ করে কোন মতে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে গ্রামের বাড়ী চলে গেছেন।
পবিত্র রমজান মাসেও তাদের ঘরে চাল, ডাল ও কাঁচা বাজারের অভাবে খেয়ে না খেয়ে স্বপরিবারে থাকতে হচ্ছে তাদের। কয়েকদিন পরেই ঈদুল ফিতরের ঈদ কিন্তু বেতন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছেন তারা। তাদের সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ, ঈদে জামা কাপড় ক্রয় এবং বাজার করার অর্থের অভাবে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
শ্রমিকদের ঘরভাড়া দিতে পারছে না এজন্য শুনতে হচ্ছে বাড়ীওয়ালাদের নানা রকম কড়া কথা। অনেকে তো বাসা ভাড়া দিতে না পেরে গ্রামের বাড়ীতে চলে গেছেন। শ্রমিকের এমন দূর বস্থায় মালিকের এমন আচরণ সত্যিই হতবাক করে দিয়েছে তাদের। বারবার বেতন প্রদানের আশ্বাস দিলেও প্রতিবারই প্রতারিত হয়েছে তারা।
বকেয়া বেতনের দাবিতে সফিপুর বাজারে বেশ কয়েকবার আন্দোলন করেও তারা বেতন পাননি। অবশেষে বিভিন্ন শ্রমিক কর্মচারী সমিতি ও ফেডারেশনে যোগাযোগ করে। তাতেও মালিক পক্ষ কোন কর্ণপাত করেনি। গত পরশুদিনও তারা গুলশান রোডে মালিকের বাসায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও কোন কাজ হয়নি।
অবশেষে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারী( বুধবার) মাহমুদ ডেনিমস্ লিমিটেডের হেড অফিস উত্তরাতে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
মাহমুদ ডেনিমস্ লিমিটেডের শ্রমিক মো আরিফুল ইসলাম বলেন ফ্যাক্টরী বন্ধ হওয়ার কারণে আমরা একেবারে বেকার হয়ে পড়েছি, এই মুহূর্তে কোন কাজেরও ব্যবস্তা করতে পারছি না। এদিকে চলতি মাসসহ চার মাসের বেতন পাওনা। আমরা পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। কিন্তু এভাবে আর কতো দিন। শ্রমিক মো মিনারুল ইসলাম, অনিমেষ, পলাশ, জাহাঙ্গীর, বিল্লাল ও আরও অনেকেই একই রকম কথা বলেন। নিম্ন আয়ের মানুষ আমরা কিভাবে চলি যদি আমাদের বেতন না দেয়।
শ্রমিক নেতা মো হারুন, সুমি ও আমিনুল ইসলাম বলেন আমরা বেশ কয়েকবার মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু পরবর্তীতে তারা তা রক্ষা করেননি। আমরা ইতিমধ্যে অনেক চেষ্টাই করেছি। সামনেই ঈদ কারো ঘরে কোন বাজার নেই, এভাবে শ্রমিকরা কিভাবে বাঁচবে। তারা ঘর ভাড়া দিতে পারছে না। এখন আমরা অফিসে আসছি। আমাদের বেতন না দিলে আমরা কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবো।
আদৌও কি তারা রমজান মাসে তাদের বকেয়া বেতন পাবে! পবিত্র ঈদুল ফিতরে তাদের খরচ বহন করতে পারবে! সন্তানের জন্য একটি নতুন জামা কিনতে পারবে! আদৌও কি তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ আসবে এমন প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মনে।
আপনার মতামত লিখুন :