STV NEWS রনচন্ডী ইউনিয়নের সোনাখুলীতে "হ্যাপি প্যালেস" পার্কে আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ব্যাবসার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল - STV NEWS

রনচন্ডী ইউনিয়নের সোনাখুলীতে “হ্যাপি প্যালেস” পার্কে আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ব্যাবসার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল


ডেস্ক রিপোর্ট জুলাই ১, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
রনচন্ডী ইউনিয়নের সোনাখুলীতে “হ্যাপি প্যালেস” পার্কে আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ব্যাবসার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল

মো:সাহেব আলী, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধি :

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের সোনাখুলী এলাকায় অবস্থিত ‘হ্যাপি প্যালেস’ নামে একটি ক্ষুদ্র পার্ককে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই কিশোর-কিশোরী পার্কের ভেতরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত পার্কটি চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা। ভেতরে ছোট ছোট খড়ের ছাউনিযুক্ত একাধিক কক্ষসদৃশ বসার স্থান রয়েছে। একটি ছাউনিতে অবস্থান করলে পাশের ছাউনিতে কে আছে তা দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের আড়ালই অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করছে।
স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ব্যবসায়ী শাবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পার্কের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেই বিভিন্ন ছেলে-মেয়ে পার্কে প্রবেশ করে এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়। তার দাবি, বাইরের এলাকা থেকেও অনেক তরুণ-তরুণী এখানে এসে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়ায়। এমনকি স্কুল চলাকালীন সময়েও শিক্ষার্থীদের পার্কে দেখা যায়। বাহিরে থেকে কেউ গেলে আগে ভিতরে গিয়ে সতর্ক করে দিয়ে আসে এবং কেউ যাতে ভিডিও করতে না পারে সে জন্য পার্কের মালিক পিছন পিছন ঘুরে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবদার রহমান বলেন, “এখানে দেখার মতো বা সময় কাটানোর মতো তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। মূলত নির্জন পরিবেশের সুযোগে ছেলে-মেয়েরা এসে ব্যাবিচারে লিপ্ত হয় । পার্কের মালিক অর্থের বিনিময়ে তাদের প্রবেশের সুযোগ দেন বলে আমরা শুনেছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পার্কের মালিক ওয়াজেদুর রহমান বলেন, এখানে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত । পার্কটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর পার্কের মালিককে ডেকে দুই দিনের মধ্যে পার্কের আড়ালগুলো অপসারণ করে দৃশ্যমান পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্কটির বৈধ অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, পার্কের মালিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অনুমতি দেখিয়েছেন। তবে বাস্তবে যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তার সঙ্গে ওই অনুমতির মিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক অবক্ষয় রুখতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পার্কটিকে ঘিরে চলমান বিতর্কের অবসান হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ আর উঠবে না।