

মো. সাহেব আলী, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী):
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর বাঘপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ফসলি জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে বিক্রি করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে একদিকে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ ট্রলিতে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা প্রথমে কোনো একটি জমি তুলনামূলক বেশি দামে কিনে সেই জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে গভীর গর্তে পরিণত করেন। পরে পাশের জমিতে পানি জমে থাকা, সেচ ও চাষাবাদে সমস্যা দেখা দেওয়ায় আশপাশের জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে কম দামে নিজেদের জমির টপ সয়েল বিক্রি করে দেন। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিঘা ফসলি জমির টপ সয়েল অপসারণ করা হয়েছে। ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন অবৈধ ট্রলির মাধ্যমে এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারবহনকারী এসব যানবাহনের চলাচলে দীর্ঘদিন পর সংস্কার করা গ্রামের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বিভিন্ন স্থানে ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “কয়েকজন অসাধু মাটি ব্যবসায়ীর লাভের জন্য পুরো এলাকার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ছে; কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফসলি জমির টপ সয়েল দেশের কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এভাবে নির্বিচারে উর্বর মাটি কেটে বিক্রি অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষি নয়, পরিবেশ ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, উপজেলা ভূমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধভাবে টপ সয়েল কাটা ও মাটি পরিবহন বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক দ্রুত সংস্কার করে এলাকাবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :