

মোঃ নুরুজ্জামান, নীলফামারী:
নীলফামারীর শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। জেলার ঐতিহ্যবাহী মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে বহুল প্রতীক্ষিত একাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণ (২য় ও ৩য় তলা) এবং নতুন মসজিদ নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ এবং ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন মসজিদটি নির্মিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উন্নয়নকাজের ফলক উন্মোচন করা হয়।শিক্ষা অবকাঠামোতে নতুন মাত্রা সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ ও স্থানসংকট দূর হবে এবং পড়ালেখার সার্বিক পরিবেশ উন্নত হবে। ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচনকালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় উদ্বোধন শেষে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহায়েল পারভেজ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’ (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।দেশের চলমান আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রধান অতিথি বলেন:”প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আমাদের দল বিএনপিকে আল্লাহ যদি রহমত দেন, তবে তিনি যেভাবে দেশের হাল ধরেছেন, তাতে ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে।”প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কর্মনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা টানা কাজ করে যাচ্ছেন। সকাল ৯টার মধ্যেই তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হন এবং অনেক সময় হেঁটে মন্ত্রণালয়ে যাতায়াত করেন। এমনকি সকাল বেলাতেই তিনি খোঁজ নেন কোন মন্ত্রী ঠিক সময়ে অফিসে এলেন আর কে এলেন না। কাজ শেষে রাত ১১টা বা ১২টায় তিনি বাসায় ফেরেন। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য আজ আমাদের ঠিক এমন নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বই প্রয়োজন।”বিশেষ অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন।তিনি বলেন, “একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন চায়নি, তারা নির্বাচন বানচালের নানা অপচেষ্টা চালিয়েছে। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করা হয়েছে, এমনকি ধর্মের দোহাই দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।” আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শত্রুদের ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।আমন্ত্রিত সুধীবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, প্রশাসক, জেলা পরিষদ।অধ্যাপক গোলাম মাজেদ, পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (রংপুর অঞ্চল)।মো. হাজেরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, নীলফামারী।তামান্না ইয়াসমিন, সমাজসেবক।অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. সোহায়েল পারভেজ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সভা শেষে কলেজের সমৃদ্ধি ও দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :