STV NEWS জলঢাকায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক নেতা ও পরিবহন মালিকের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন - STV NEWS

জলঢাকায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক নেতা ও পরিবহন মালিকের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন


ডেস্ক রিপোর্ট মে ৩০, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ন
জলঢাকায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক নেতা ও পরিবহন মালিকের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি, নীলফামারী:
নীলফামারীর জলঢাকায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ চাঁদা আদায় ও পরিবহন মালিকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আয়োজিত দুই পক্ষের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিবহন খাতে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১২টায় জলঢাকা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন ‘পারফেক্ট ট্রাভেলস’ ও ‘জলঢাকা ট্রাভেলস’-এর মালিকপক্ষ। যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা মো. মাজহারুল ইসলাম মিঠুন। এ সময় পারফেক্ট ট্রাভেলস-এর চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম এবং মাজেদুল ইসলাম মিজুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. মাজহারুল ইসলাম মিঠুন অভিযোগ করেন, নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-২২০)-এর জলঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে পরিবহন ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, কোনো বৈধ লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই তাদের দুটি দূরপাল্লার পরিবহন আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। ওই দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, কাউন্টারে গিয়ে কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মিঠুন আরও বলেন, জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি। ফলে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সংঘটিত কর্মকাণ্ড বলে তাদের ধারণা। তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে একই দিন বিকেল ৩টায় জলঢাকা উপ-কমিটির কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা ও জলঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে “মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য সততার সঙ্গে কাজ করে আসছি। আমার সামাজিক ও সাংগঠনিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।”
আব্দুর রশিদ আরও বলেন, ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার সম্মানহানি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রয়োজন হলে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে আইনগতভাবে মোকাবিলা করব এবং সম্মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করছি।”
তিনি গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রশিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জলঢাকা উপ-কমিটির সভাপতি মমিনুর রহমানসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
এ সময় শ্রমিক নেতারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের এমন প্রকাশ্য অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে পরিবহন খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।