নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় প্রথম স্ত্রী নাজমিন নাহার (২৯)-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা, সম্পদ আত্মসাৎ, দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (৩০)-কে অমানবিক নির্যাতন এবং তা ঢাকতে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী আল আমিন ইসলাম।সোমবার (১৯ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে উপজেলার নেকবক্ত কুটিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আল আমিন ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ পারিবারিক জীবনে তাঁর প্রথম স্ত্রী নাজমিন নাহার বিভিন্ন কৌশলে তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে বাবার বাড়ির পাশে জমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণ করান। পরবর্তীতে তিনি অত্যন্ত প্রতারণামূলকভাবে ওই জমি ও বাড়ি নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রথম স্ত্রী সংসার করতে অস্বীকৃতি জানালে পূর্বের পারিবারিক সম্মতিক্রমে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এতে ইর্ষান্বিত হয়ে প্রথম স্ত্রী কৌশলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে গাছের সাথে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালান। পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।উক্ত নির্যাতনের ঘটনায় দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে নীলফামারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাজমিন নাহারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।আল আমিন ইসলাম দাবি করেন, আদালতের ওই মামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে গত ১৮ অক্টোবর (রবিবার) প্রথম স্ত্রী ও তাঁর পরিবার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতনের কাল্পনিক অভিযোগ তোলে। সেখানে তাঁকে 'ক্যাসিনো জুয়াড়ী' ও 'নির্যাতনকারী' বলে মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য দেওয়া হয়, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।এছাড়া এই পারিবারিক সংঘাতের সুযোগ নিয়ে এক ভূঁইফোড় অনলাইন সংবাদকর্মী তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিজনক পোস্ট করে তাঁর সম্মানহানি করা হয়, যার বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।সংবাদ সম্মেলনে আল আমিন ইসলাম গণমাধ্যম ও প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উন্মোচন, দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাইবার মানহানিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আমিন ইসলামের পিতা মোকলে মাহমুদ ও তার বড় আব্বা বহুবার রহমান।