
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১,নং ওয়ার্ডের চরভরট এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে খাদিজা আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, খাদিজার মৃত্যু অস্বাভাবিক হতে পারে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দিন আগে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু খাদিজা আক্তার। পরে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে তাকে পাওয়া যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।খাদিজার বাবা আজারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ কারণে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন,আমার স্ত্রী পরোকিয়ায় লিপ্ত ছিলো,আমাকে এবং আমার মেয়েকে দেখতেই পারেনা।সে দুইবার দুইটি বাচ্চা নষ্ট করছেন বলে দাবি করেন তিনি। ভিন্ন সময় তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।আজারুল ইসলামের দাবি, ‘‘আমার মেয়ে যদি খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়, তাহলে কীভাবে পুকুরের মাঝখানে গিয়ে ডুবে গেল—এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের ভেতর থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাই আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’’শিশুটির চাচারও দাবি, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাদিজার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, ‘‘নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এভাবে ভাতিজির মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের কাছে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করা হোক।’’স্বজনেরা আরও দাবি করেন, খাদিজার মৃত্যুর আগে পারিবারিক নানা বিষয়ে বিরোধ ছিল। এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।তবে খাদিজার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পানিতে ডুবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তদন্তের পরই তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।এ ঘটনায় খাদিজার স্বজনেরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।