মোঃ মিনারুল ইসলাম,চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামে প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ পণ্ড হয়ে গেছে।গতকাল ২৫শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। বাল্যবিবাহে সহযোগিতার অপরাধে কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামে এক কিশোরীর (বয়স ১৪ বছর) বিয়ের আয়োজন চলছে—এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন দামুড়হুদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিয়ে বাড়িতে মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাৎক্ষণিকভাবে এই বাল্যবিবাহটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারা অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা এবং তাতে সরাসরি সহযোগিতা করার অপরাধে কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।হঠাৎ এমন ঘটনায় এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে কিশোরীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ও কিছুটা অসুস্থতাবোধ করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর বর্তমানে সে পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে বলে পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অপরাধ রোধে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।