এস টিভি নিউজ এক্সপ্রেস,ডেক্স রিপোর্ট :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের ৯,নং ওয়ার্ডের একেবারে শেষ সীমানার প্রত্যন্ত এলাকা উঁচা বদি মাঝাপাড়া। যোগাযোগ ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এই এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গড়ে উঠেছে নূরে মদিনা ক্বওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা।
উঁচা বদি মাঝাপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খোকনের উদ্যোগ, অদম্য পরিশ্রম এবং স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সন্তান।
প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক শাখায় প্লে থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি নুরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের অধীনে শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করা হচ্ছে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও ভরণপোষণের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এ এলাকার অনেক শিশুর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খোকনের নিরলস প্রচেষ্টা এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। প্রত্যন্ত এলাকায় এমন একটি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় তাঁরা নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতিতেও সন্তুুষ্ট এলাকাবাসী। তাঁদের ভাষ্য, কিছুদিন আগেও যেসব শিক্ষার্থী কুরআন শিক্ষায় একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তারা এখন বিভিন্ন সূরা মুখস্থ তিলাওয়াত করতে পারছে। পাশাপাশি ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এসে এখানে পড়াশোনা করছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে এলাকাবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা ও আতিথেয়তা দিয়ে আসছেন। শিক্ষক ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খোকনও শিক্ষার্থীদের পরম যত্নে পাঠদান করছেন।
তবে প্রতিষ্ঠানটির সামনে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। এলাকাবাসীর দাবি, রনচন্ডী ইউনিয়নের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি বরাদ্দ বা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাও খুব কম পাওয়া যায়। ফলে মাদ্রাসা ও এতিমখানাটির কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা।
এলাকাবাসী নূরে মদিনা ক্বওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাটির উন্নয়নে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলো আরও বিস্তৃত করতে পারবে।
স্থানীয়দের আশা, সবার সহযোগিতায় নূরে মদিনা ক্বওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা একদিন রনচন্ডী ইউনিয়নের একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে এবং উঁচা বদি মাঝাপাড়ার মতো প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এলাকার সুনাম আরও বাড়াবে।