নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের এক গৃহবধূ তার স্বামীর দায়ের করা অপহরণের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে জামালপুর সদর থানায় উসমান গনি নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী মীম আক্তার ও সন্তানদের অপহরণের অভিযোগ এনে একটি লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে জামালপুর সদর উপজেলার ২ নং শরীফপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়।তবে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে নিজের বক্তব্যে মীম আক্তার বলেন, তিনি কোনো অপহরণের শিকার হননি। তার দাবি, স্বামী উসমান গনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন ও বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি দুই সন্তানকে তার মায়ের কাছে রেখে একাই ঢাকায় চলে যান। দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকার পর তিনি ২৮ তারিখ মিডিয়ার সামনে কথা বলেন।অপরদিকে, অপহরণ মামলায় নাম উল্লেখ হওয়া মোঃ মানিক মিয়া বলেন, "মিথ্যা অভিযোগের কারণে আমার সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি ২ নং শরীফপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"তিনি আরও বলেন, "ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এমপির কাছে বিষয়টি পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।"এদিকে মীম আক্তারের বক্তব্য প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।তবে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত উসমান গনি, বক্তব্য পাওয়া যায়নি । তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।