মোঃসাহেব আলী, জেলা প্রতিনিধি,নীলফামারীঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বাড়ির সামনে উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া জামিয়া সামছুল উলুম কওমি ও এতিমখান মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সরকারি সহায়তা গর্ভমেন্ট রিলিফ (জিআর) চালের বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাহিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বড়ভিটা ইউনিয়নের ময়দানপাড়া গ্রামে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে কোনো মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পাঠদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে সম্প্রতি সরকারি সহায়তা জিআর তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম বড়ভিটা জামিয়া শামসুল উলুম কওমি এতিমখানা মাদ্রাসা এবং মোহতামিম জাহিনুর রহমান অন্তর্ভুক্ত করে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন জাহিনুর রহমান। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসার কোন ধরনের ব্যবস্থা নাই। তবে তিনি বাড়ির সামনে মাদ্রাসার নাম লিখে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রেখেছেন ৷ বাড়ির দুটি রুমে মাদ্রাসা পরিচালনা করার দাবি করলেও তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যায় নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধুমাত্র একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মাদ্রাসা থাকার দাবি করা হয়েছে। বাস্তবে সেখানে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে কোন মাদ্রাসা নাই, দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র একটি ব্যানার টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে এক বছর ধরে কোন পড়ালেখা হয়নি।
আরেক বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, এখানে কোন মাদ্রাসা নাই তবুও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে৷ এখানে অনেকদিন ধরে মাদ্রাসা দেখিনি।
এ অভিযোগের বিষয়ে জাহিনুর রহমান মুঠোফোনে জানায়, আমাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, আমি একজনের মাধ্যমে আবেদন করে বরাদ্দ পেয়েছি এখনো উত্তোলন করিনি। আমি বাড়ির ভিতরে দুটি রুমে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা করি।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) লতিফুর রহমান বলেন, বরাদ্দ হয়েছে তবে সবকিছু যাচাই বাছাই করে চাল উত্তোলন করার অনুমতি দেওয়া হবে।
এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানালেন খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।